আলো ছড়ানো শিক্ষক ও নীরব দ্রষ্টা
জন্ম, পরিবার ও নিভৃত শেকড়:
জীবনের শুরুটা হয়েছিল হেমন্তের শেষ আলোয়, ১৯৯৫ সালের ৩০ নভেম্বর। আকাশের চাঁদ হয়তো সেদিন একটু বেশিই হাসছিল। লেখকের শৈশবের শেকড় গেঁথে আছে শহীদনগর নামের এক নিভৃত গ্রামে, যা পাগলা থানার অধীন গফরগাঁও উপজেলার এক টুকরো শান্তির নিবাস।
পরিবার বলতে তাঁর জীবনে ভালোবাসার অফুরান ধারা—স্নেহময়ী মা এবং পথপ্রদর্শক বাবা। তাঁর আপনজনদের বৃত্তে আছেন সহধর্মিণী ইসরাত জাহান, যাঁর হাত ধরে জীবনের নতুন পথে চলা। আর এই ভালোবাসার বাগানে সদ্য ফোটা ফুলটি হলো তাঁদের ছেলে মেহেরাজ আল জারিফ, যার জন্ম ২০২৪ সালের ৮ই জুলাই। বাবা-মায়ের দিনরাত এখন ছোট্ট এই মানুষটিকে ঘিরেই কাটে। লেখকের ছোট ভাই একজন ক্রিকেটার—জীবনের মাঠে যার গতিময়তা এবং পরিশ্রম তাঁকে নিরন্তর প্রেরণা যোগায়।
শিক্ষকতার বিস্তীর্ণ জগৎ ও কর্মজীবন:
পেশাগত জীবনে লেখক ছিলেন একজন আলো ছড়ানো মানুষ। তাঁর শিক্ষকতার ক্ষেত্রটি বেশ বিস্তৃত, যেন এক জন থেকে আরেক জনের কাছে জ্ঞানকে প্রবাহিত করার নিরন্তর প্রচেষ্টা। তিনি শহীদ নগর উচ্চ বিদ্যালয়, ইমদাদুল হক একাডেমি, বর্ণমালা একাডেমি, এ.কে. পাঠান আইডিয়াল স্কুল, মেধাবিকাশ কোচিং সেন্টার এবং বলদীঘাট জান মাহমুদ সরকার উচ্চ বিদ্যালয়-এর মতো প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন। এই পেশায় তিনি শুধু পাঠ্যবই পড়াননি, বরং বহু শিক্ষার্থীর মনে স্বপ্নের বীজ বুনে দিয়েছেন। শিক্ষকতার বাইরে তিনি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ঢাকা ওয়াসা-তেও কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।
শিক্ষা ও জ্ঞান আহরণ:
মা ঝর্ণা খানম-এর কাছে প্রাথমিক পাঠ এবং নিজাম উদ্দিন-এর কাছে গৃহশিক্ষকের পাঠ গ্রহণের পর তিনি দেউলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গয়েশপুর ফাজিল মাদরাসা ও শহীদনগর উচ্চ বিদ্যালয়-এ জ্ঞান অন্বেষণ করেন। কাওরাইদ গয়েশপুর কলেজ ও শ্রীপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে উচ্চশিক্ষা লাভ করেন। এখানেই শিক্ষক নাহিদা খন্দকার-এর সান্নিধ্যে আসেন, যিনি তাঁর পরবর্তী সকল ভালো কাজের অনুপ্রেরণা। অবশেষে আনন্দমোহন কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।
সৃজনশীলতার স্বাক্ষর
সাহিত্য ও সম্পাদনা:
লেখকের মননশীলতার প্রথম ফসল হলো ‘সময়রেখা’ (২০২২), একটি ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস। এরপর প্রকাশিত হয় তাঁর কাব্যগ্রন্থ ‘রণাঙ্গন’ (২০২৪), যা ইসলামি ও সমসাময়িক রাজনৈতিক কবিতা নিয়ে লেখা। কলম যে শুধু কল্পনার জন্য নয়, সময়ের মুখোমুখি দাঁড়ানোর হাতিয়ার, সেটি তিনি এই কাব্যগ্রন্থে দেখিয়েছেন। এছাড়াও, তাঁর সৃষ্টিশীলতার প্রকাশ ঘটেছে পুস্তিকায় (‘একটি সাদা বক’, ‘আমাদের শিক্ষাগুরু’) এবং সম্পাদিত পত্রিকাগুলোতে (‘ব্যতিক্রম সময়’, ‘কালের ছায়া’, ‘প্রতিজ্ঞা’)।
একজন লোকাল গাইড, স্বেচ্ছাসেবী এবং নিরন্তর জ্ঞানপিপাসু হিসেবে তিনি গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন, বই পড়া ও নতুন কিছু করার নেশায় মেতে থাকেন। জীবনকে তিনি এক ক্যানভাস মনে করেন, যেখানে প্রতিদিন নতুন রঙের আঁচড় পড়ে।

0 মন্তব্যসমূহ