আমার আজ ভাইবা পরীক্ষা। গতরাতে ঢাকা থেকে ফিরেছি। বিসিএস রিটেন ছিলো। আজ ভোর চারটা থেকে অঝোর ধারায় বৃষ্টি। ঈদানিং এই ভাদ্র-আশ্বিন মাসেও ঝড়ঝাপ্টা হয়। বাজ পড়ে হতাহত হয় মানুষ।
কাগজপত্র সত্যায়িত করেছি। তাই এত দ্রুততা। আজ আবার ঢাকায় যেতে হচ্ছে।
বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হচ্ছে। অঝোর ধারা। আমার সামনে আমার বাবা। আমরা রিকশা পেলাম না। সাড়ে তিন কিলোমিটার পথ যাবো হেঁটে। প্রচন্ড বৃষ্টি। রেললাইন ধরে হাঁটছি। আমার জুতা ছিঁড়ে গেলো বাড়ি থেকে আধ কিলো হেঁটেই। আমি অবশ্য কোনভাবে হেঁটে চলতে পারছি স্বাভাবিকভাবেই। জুতার সোল পড়ে গেল একটু পর।
বৃষ্টি হচ্ছে রাস্তায় পানি স্রোত প্রবাহমান। জুতা আর সামনে নেওয়া সম্ভব না। জুতা ছেঁটে দিলাম। খালি পায়ে হাঁটছি। আমি একটু পেছনে হাটছি। কথা বলে স্বাভাবিকতা বজায় রাখছি। লক্ষ্য রাখছি আব্বা যেন না দেখেন বিষয়টা।
আমি জানি এই দৃশ্য উনি দেখলে নিজে জুতা পড়বেন না। জুতা আমাকে দিয়ে এই কংক্রিটের ধারালো পথে তিনি হাটবেন খালি পায়ে!
এটা কোনভাবেই উনাকে বুঝানো যাবে না। তাই আমি পিছনে আসছি। বেশিক্ষন থাকা গেলো না। উনি দেখে ফেললেন।
আমি বুঝলাম, এবার তিনি কোনো অজুহাতে নিজের জুতা পদান্তর করবেন।
একটু পর উনি বললেন,
দেখো তো এই জুতা তোমার পায়ে লাগে কি না!
আমি বললাম,
না, এই জুতা আমার পায়ে লাগবে না!
উনি একটু জোরাজুরি করলেন। আমি সি এনজি পর্যন্ত উনার আবদারকে পাশ কাটাতে পারলাম।
জৈনায় উনি আবার জুতা পাল্টাতে চাইলেন। আমি বললাম,
মাহমুদুল স্যারের দোকান আছে। আমি দোকান থেকে জুতা কিনে নেবো।
তখন সকাল। ৭.৩৫ এর মতো বাজে। দোকান বন্ধ। আমি স্যারকে তবু ফোন দিলাম। আব্বাকে ময়মনসিংহ চলে যেতে বললাম। উনি জুতা না দিয়ে যাবেন না।
না পেরে আমি জুতা নিলাম। আমার বাবা খালিপায়ে ময়মনসিংহ যাচ্ছেন। আমি বাবার জুতা নিয়ে যাচ্ছি ঢাকা।

0 মন্তব্যসমূহ