ট্রয় নগরী ধ্বংস হয়েছিল এক নারীর কারণে। তার নাম হেলেন। এটা সবাই জানি।

কিন্তু স্টেফানি আইজাক (Stefanie Isak) নামটি কয়জন জানি?

১৬ বছরের এই ই’হু:দী মেয়েটার কারণে সারা পৃথিবী ধ্বংস হবার উপক্রম হয়েছিল।

ধনী ব্যবসায়ীর মেয়ে। একদিন রাস্তার ধারে বসে থাকা এক চিত্র শিল্পিকে দিয়ে সখ করে মেয়েটি তার একখানা ছবি আঁকাল। অসম্ভব রুপবতী এই নারীর ছবি আঁকতে গিয়ে মনের অজান্তে শিল্পি তার প্রেমে পড়ে গেল। ছেলেটির বয়স তখন ১৮।

তার স্বপ্ন চিত্রশিল্পী হওয়া। Academy of Fine Arts, Vienna-তে চেষ্টা করছে ভর্তি হবার জন্য। কিন্তু পারছে না।ছেলেটির সময় কাটে রাস্তার ধারে বসে ছবি এঁকে, আর মাঝে মাঝে পথচারীদের ছবি এঁকে দু-চার পয়সা রোজগার করে।

শিল্পীদের মন খুব রোমান্টিক হয়, এটাই স্বাভাবিক।তারপর দিন মেয়েটিকে সে propose করে বসল।মেয়েটি হ্যাঁ বা না কিছুই বলে নাই। ছেলেটি মাঝে মাঝেই মেয়েটির বাড়ীর সামনে বসে থাকত। যদি এক পলক মেয়েটিকে সে দেখতে পায়। উঁচু প্রাচীর ঘেরা বিশাল লোহার গেট। ছেলেটি তার পোষা কুকুরটিকে গেটের ফাঁক দিয়ে বাড়ীতে ঢুকিয়ে দিত। কুকুরটির মুখে থাকত প্রেমপত্র।

ভিয়েনা আসার সময় তার মা এই কুকুরটিকে তার সাথে দিয়েছিল। ছেলেটি খুব ভালবাসতো কুকুরটিকে। বলা যায় এই কুকুরটি ছিল তার মায়ের দেয়া শেষ উপহার। কারণ এর পর আর কোনদিন তার মা Klara-র সাথে তার দেখা হয়নি। তিনি মারা যান।

মেয়েটির পরিবার বিষয়টি আমলে নিল। ছেলেটি চালচুলোহীন রাস্তার ছেলে। তার উপর ই”হু:দী নয়। এই সম্পর্ক কিছুতেই সম্ভব নয়। আর ছেলের ভবিষ্যত বলে কিছুই নেই। কিন্তু ছেলেটি যে পাগলের মতন ভালবাসত মেয়েটিকে। উত্তর না পেলেও সে চিঠি লিখে যেত।

একদিন কুকুরের মুখে চিঠি দিয়ে আবার পাঠাল সেই বাড়ীতে। কিন্তু কুকুরটি আর ফিরে এল না। পরদিন ছেলেটি কুকুরটির মৃতদেহ খুঁজে পেল। নির্মম ভাবে মেরে ফেলা হয়েছে। অসম্ভব কষ্টে ছেলেটি কাঁদতে কাঁদতে ফিরে এল। আর কোনদিন ওই বাড়ীর সামনে সে যায়নি।

এই চালচুলোহীন ছেলেটি পরে যা করেছিল তা পৃথিবীর নির্মম ইতিহাস। বলা যায় ছেলেটি নিজ হাতে গত শতাব্দীর ইতিহাস লিখে গেছে।

ছেলেটির নাম এ-ডল’ফ হি:ট;ল.র।