মুরব্বিরা বলতেন - শেখ মুজিবকে মারার পর সারাদেশে আনন্দ মিছিল হয়েছিল, মিষ্টির দোকান পাঁচ মিনিটেই খালি হয়ে গিয়েছিল। লাশটা পর্যন্ত দেখতে যায়নি কেউ, ওখানেই পড়ে ছিল দীর্ঘ সময় ধরে। এমনকি শেখ মুজিববের জানাযাটাও ঠিকমতো...
ঢাকার পরিস্থিতিও স্বাভাবিক ছিল, সবাই যার যার মতো নিজেদের কাজকর্ম করছিল।
তাদের কথাগুলো শুনে ভাবতাম - এও কি সম্ভব? যুদ্ধের সময়কার একজন নেতার মৃত্যুতে মিষ্টি বিলাবে, দেখতে যাবে না কেউ!
পরে বড় হতে হতে এর কারনটা বুঝলাম মুজিবের দীর্ঘদিনের একনায়কতন্ত্র, শোষণ আর বাকশাল তার এই দশা করেছে। মানুষের বুকে জমে থাকা ক্ষোভ তার মৃত্যুতে জনগণতে আনন্দিত করেছে।
যুদ্ধের আগে মুজিব জনগণের নেতা ছিল কিন্তু যুদ্ধের পর ক্ষমতায় এসে তার রূপ পুরোটাই পাল্টে গিয়েছিল।
জাসদের ৩০ হাজার কর্মীকে নির্দেশ দিয়ে হত্যা করা, একনায়কতন্ত্র কায়েম করতে বাকশাল গঠন করা, জেনারেল ওসমানী, ভাসানী সহ আরও বহু নেতাকে প্রাপ্য মর্যাদা না দেয়া- এসব কারণেই মুজিব মানুষের মন থেকে উঠে গিয়েছিল।
দেশের মানুষ যুদ্ধের আগের মুজিব আর পরের মুজিবের পার্থক্য দেখে আশ্চর্য হয়ে গিয়েছিল।
তাছাড়া ৭৪ এর দুর্ভিগের সময় দেশে যখন না খেতে পেরে হাজার হাজার মানুষ মারা যাচ্ছিল মুজিব তখন নিজ ছেলে জামাল এবং কামালকে মাথায় স্বর্ণের মুকুট পড়িয়ে কোটি টাকা খরচ করে বিয়ে দিয়েছিল।
একদিকে না খেতে পেয়ে জীর্ণশীর্ণ হয়ে মানুষ মরছে, অন্যদিকে মুজিব বাড়ির বিয়েতে ভয়াবহ জৌলুসের আনুষ্ঠানিকতা।
মুজিব তখন থেকেই মানুষের মন থেকে উঠতে শুরু করেছিল। সেই মন থেকে উঠার শেষ পরিণতিই ঘটেছিল ১৫ই আগস্টে।
বিদেশি টিভি চ্যানেল CBS পর্যন্ত সেদিন রিপোর্ট করতে এসে দেখেছিল ঢাকার পরিস্থিতি একদম শান্তশিষ্ট, যেন কিছুই ঘটেনি।
তাদের মতে- মুজিব দেশের অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল অবস্থায় নিয়ে যাচ্ছিল তাই তার মৃত্যু যে কারো হাতে যেকোন সময় ঘটতে পারতো।
তাছাড়া কারো মৃত্যুতে জনগণ এমনি এমনি মিষ্টি বিলায় না, দীর্ঘদিনের জমে থাকা আফসোস আর ক্ষোভের কারণেই বিলায়।
ইতিহাস বিকৃত করে লিখে শেখ মুজিবের সেসব ঘটনাগুল এতদিন জানতে দেয়া হয়নি আমাদেরকে।
শুধু শেখ মুজিব না,
ইরাক-ইরান, সিরিয়ার বহু জনদরদী নেতাও ক্ষমতায় বসার পর চেঞ্জ হয়ে গিয়েছিল। তারপর তাদের পতন ঠিক জনগণের হাতেই হয়েছিল।
তাই ১৫ই আগস্ট আগামীর রাজনীতিবিদদের জন্যে
একটা নজিরের মতো।
আগামী রাজনীতি একটা নতুন অধ্যায়
শিক্ষার কোনো শেষ নেই...।
0 মন্তব্যসমূহ